‘ফলমূল ও শাকসবজির ফরমালিনে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নেই’

১৫ মে, ২০২১ ১৪:৪৬  
ফলমূল ও শাকসবজিতে মেশানো ফরমালডিহাইড মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে অনুজৈবিক দূষক থেকে নিরাপদ থাকতে এগুলো খাবার বা রান্নার আগে ভালো ভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এর গবেষণার বরাত দিয়ে এ বিষয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে সংস্থাটি। এতে বলা হয়- ‘ফলমূল ও শাকসবজি হচ্ছে তন্তু (ফাইবার) জাতীয় খাবার,যেখানে প্রোটিনের উপস্থিতি অত্যন্ত কম। ফরমালিন হচ্ছে ৩৭ শতাংশ ফরমালডিহাইডের জলীয় দ্রবণ এবং অতি উদ্বায়ী একটি রাসায়নিক যৌগ যা মূলত প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে বিক্রিয়া করে। তাই ফলমূল শাকসবজি সংরক্ষণে ফরমালিনের কোনও ভূমিকা নেই। উপরন্তু,প্রকৃতিগতভাবেই প্রত্যেক ফলমূল ও শাকসবজিতে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় (গড়ে ৩-৬০ মিলিগ্রাম/কেজি মাত্রায়) ফরমালডিহাইড থাকে,যা মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়।’ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য মঞ্জুর মোরশেদ আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, র্বাইড আইনে করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এটা যদি একজায়গায় রেখে বাতাসে ছড়ানোর মাধ্যমে ব্যবহার করা হয় তাহলে সেভাবে ক্ষতি হয় না। কিন্তু আমাদের দেশে ভুল প্র্যাকটিস করে। কার্বাইড পানিতে মিশায়ে ব্যবহার করা হয়, যার কারণে গায়ে লেগে থাকার সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া ইথোফেনের প্রয়োগ বিশ্বজুড়েই আছে। এটা সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে তা কখনই ফলের ভিতরে যায় না। এটা উদ্বায়ী, তাই বাতাসের সঙ্গে মিশে উড়ে যায়। শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল কাইয়ুম এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ফলমূল পাকানোর জন্য কোন গাছে ইথিলিনের প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে যখন কৃত্রিমভাবে ইথফেন কিংবা কার্বাইড দেওয়া হয় তখন ফলটা পাকে। এখানে সেই রাসায়নিকের কাজ হল শুধু সংকেত প্রদান করা ফলে যাতে হরমোন উৎপন্ন হয়। সে কিন্তু নিজে আমকে পাকায় না। ইথোফেন-কার্বাইড সবই উদ্বায়ী,বাতাসের সঙ্গে মিশে যায় আমের ভিতরে প্রবেশ করে না। আর দেশে পিওর কার্বাইডের অনেক দাম হওয়ায় হেভি মেটালের মিশ্রণযুক্ত নন পিওর কার্বাইড ব্যবহার করায় ঝুঁকি থাকে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।